TOMAY JANAI…



প্রিয় প্রানাধিকেষু ,

অস্তগামী সূর্যের শেষ রশ্মিপাতে আমার জন্ম। জীবনের প্রথম পর্ব থেকে পথ চলতে শুরু করেছিলাম একা। চলতি পথে পথ চলতাম কুঁড়িয়ে পাওয়া ফুলের মালা গেঁথে। সে মালা গলায় পরার অধিকার সেদিন কারুর ছিল না। সাদা – কালো আলো আঁধারিতে আমার পথ চলা শুরু। এই একাকী পথ চলতে চলতে পেলাম এক আদর্শ মানুষকে আমার জীবনে। সে আমার কবি ।

শুরু হল যুগল চলনের খেয়া বাওয়া। খেয়া বাইলাম শুধু দুজনে। আজ এক হয়ে পথ চলতে এবং লিখতে শুরু করলাম। আমি একজন আবৃত্তিকারক। একদিন লেখা শুরু করেছিলাম। কিন্তু শেষ হয়ে গিয়েছিল। আজ আবার আমার কবি আমার জীবনে এসে আমাকে রঙিন করল।আজ সেই রঙিনে আবার লেখা শুরু। আমার কবি আমার রঙিন জীবনের উৎসাহ, আমার বর্তমান দিনের চলার সাথী, আমার ভবিষ্যতের পাওয়া। আজ তাঁকে নিয়েই শুরু হল “মুখর কবিতা “য় আমাকে এবং তাঁকে খুঁজে পাওয়া।

ইতি
মনের কথা




Advertisements

শূন্য খাঁচা (Sunno Khacha) by Swaralipi Jana


অনেক দিনের আমার যে গান
আমার কাছে ফিরে আসে
তারে আমি শুধাই –
তুমি ঘুরে বেড়াও কোন বাতাসে ?
যে ফুল গেছে সকল ফেলে
গন্ধ তাহার কোথায় পেলে ?
যার আসা আজ শূন্য হল
কি সুর জাগাও তাহার আশে ?

আজ আমার জীবন এসে ঠেকেছে জীবনের প্রথম পর্বের মত। সেই জীবনের প্রথম পর্ব শুরু হয়েছিল এক গানের মত। তখন আমি একা জীবনে। আমার মা বাবা পরিবারের সবাই থেকেও কেউ ছিল না আমার। আমি চলতাম কবিতা, গল্প, আবৃত্তি, পড়শুনা, গান নিয়ে। তখন আমার জীবনের পূর্নিমার আলো থাকত খুব মৃদু হয়ে। আমাবস্যার প্রকট অন্ধকার ক্রমেই গাঢ় হয়ে উঠল। খাঁচার ভিতর বন্দি হয়ে এক পাখির মত থাকতাম। একদিন সেই খাঁচা ভেঙে বের করে মুক্ত করলে তুমি।বাইরে বেরিয়ে ডানা মেলে ধরলাম তোমার কাছে। তোমার সামনে তুলে ধরলাম আমার জীবনের হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি পাতাকে। নিজের লজ্জাকে বিসর্জন দিলাম তোমার কাছে। ভালোবাসাকে নিবেদন করলাম তোমার পুষ্পরাশিতে ভরা হৃদয়ে। আমার মাথাকে নিবেদন করলাম তোমার চরণে। সব কিছু নিয়ে দুজনে কল্পনায় বাইরে একটি ছোটো হাসি-খুশি সুখ-দুঃখের বাসা বাঁধতে শুরু করলাম। কিন্তু সেই বাসাটা শক্ত করে তৈরি করতে না করতেই আমার জীবনে বন্দি পাখির মত গান কোন্ বাতাসে ভেসে এসে আজ আমাদের ছোট্টো সাজানো বাসাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আজ সেই বাসা ভেঙে এক ডালে তুমি। আর অন্য দূরের এক ডালে আমি বসেছি ডানা গুটিয়ে। কিন্তু মাঝখানে তৈরি হয়েছে লক্ষ যোজন ফাঁক। আজ আবার কেন সেই বাতাস বয়ে নিয়ে এল আমার জীবনের পুরোনো গানকে। ফুলে ভরা বন্দি খাঁচার পাখি তো সব ফেলে দিয়ে আজ বেরিয়ে এসেছে নতুন জীবনে, নতুন জগতে। সেই খাঁচার আর ফিরবে না সে। তবুও কেন তার পাশে আজও পুরনো গান ঘুরে বেরাচ্ছে। কবি তুমি আমাকে পারলে বের করে আনো। তুমি আমার জীবনে আজ সব সুখ-সপ্নের বাসা। ভেঙে দাও আমার চারিদিকের বেড়া।

অচিন পাখির অচিন মন
আজ খাঁচাতে বাঁধা।।
ভেঙে ফেল সেই খাঁচাকে
যাতে তোমার অচিন পাখি বাঁধা।।



~~©Swaralipi Jana



Image credit:google.com

নিশীথরাতের বাদলধারা by Swaralipi Jana

গভীর রাতের চোখ বোজা আলোকে এবং ভোরের বেলার প্রথম আলোকে আমার সপ্ন মন। সপ্ন দেখি কখনও চোখ বুজে। কখনও জেগে বসে বসে। আবার দেখি কখনও অন্য মনে। কখনও দেখি জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে বৃষ্টিভেজা আষাঢ় মেঘের ফাঁক দিয়ে। কখনও সপ্ন দেখি, আষাঢ়ে মেঘের ফাঁকে তোমার মুখ নিয়ে অথবা আমাদের মিলন খনের গোপোন ভালোবাসা নিয়ে। তবে আজ সপ্ন দেখেছি ‘নিশীথরাতের বাদলধারা’তে। সে সপ্ন এসে শেষ হয়েছিল ভোরের ঊষাপ্রাতের প্রথম আলোতে।-

আমার নিশীথরাতের বাদলধারা, এসো হে গোপনে
আমার স্বপনলোকে দিশাহারা।।

গভীর ঘুমের মগনে আজ তুমি এলে আমার শয়নকক্ষে। যখন এসে প্রবেশ করলে আমার ঘরে তখন মনের ঘরে আমি, আমার শুকনো ঠোঁটে বিছানায় গভীর ঘুমে আমার শ্রান্ত শরীর নিয়ে শুয়ে আছি। পরনে ছিল রাতের পোশাক। গায়ের উপর হালকা করে ছিল একটা চাদর ফেলা।তখন তুমি এসে আমার পাশে বিছানায় শুয়ে আমার মুখের উপর মুখ নিয়ে আমার বুকের মাঝে তোমার দুটি ঠোঁটের চুম্বন রাখলে। ঘুম ভাঙল এবার। কিন্তু দেখতে পেলাম না তোমায়। আধো জাগ্রত ঘুমে আবার চোখ বুঝলাম। তখন বাইরে মুষলধারে বৃষ্টির শব্দ আমার অন্ধকার ঘরে এসে ধরা দিল।কখনও ধরা দিল জানালা দিয়ে আসা বৃষ্টিভেজা সোঁদা গন্ধে ভরা হাওয়া। সেই বৃষ্টিভেজা হাওয়ায় স্বপনলোকে দিশাহারা করলে আমায়। অন্ধকারে অন্তরধনে আমার পরানকে ঢেকে তুললে তুমি। তবুও আধো জাগ্রত তন্দ্রায় আমি।

যখন জাগল না আমার মন, আমার চোখ তোমার দুটি আঁখিতে পরশ করল না তখন তুমি আমার কাছে এসে পরশ করলে তোমার বৃষ্টিভেজা ঠোঁটের পরশে। তোমার বৃষ্টিভেজা ঠোঁটের পরশে জেগে উঠল আমার শান্ত শরীর। ঠোঁট হয়ে উঠল রাঙা হয়ে। চোখ হয়ে উঠল নেশাতে ভরা মাতাল হয়ে। ঘুম নিলে আমার হরণ করে। আমি জড়িয়ে ধরলাম বৃষ্টিভেজা শীতল তোমার শরীরকে। তখন বৃষ্টি নেমেছে আরও জোরে। জানালার ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির হ্যাঁচলা এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে তোমাকে আমাকে। আমার ঘুম পুরো ভেঙে গেল। আমি দেখতে পেলাম তোমাকে। উঠে বন্ধ করতে যাব জানলাটাকে। কিন্তু তোমার পরশ তখন করল আমার শরীর অবশ। তখন শরীরের সর্বাঙ্গে পেলাম তোমার বৃষ্টিভেজা ঠোঁটের পরশ। হঠাং বলে উঠলে তুমি-

আয় রে ঝঞ্ঝা, পরানবধূর
আবরণরাশি করিয়া দে দূর,
করি লুন্ঠন অবগুন্ঠন-বসনখোল্।

শুরু হল পরানখেলা। পরানখেলা খেলতে খেলতে কখন যে চলে গেলে তুমি, তাও জানল না মন। স্বপ্ন শুরু হয়ে শেষ হল। তবু রইল স্বপ্নমন।

স্বপ্নে দেখা তুমি, স্বপ্ন মন।
ধরা দিলে আমার পরাণ মন।
ছুঁয়ে নিয়ে গেলে আমার যত যাতনা মন।
ছিনিয়ে নিলে আমার লাজ আবরণ।
করলে পরশ গোপনে যতনে।
ভালোবাসলে আমাকে স্বপ্ন আদরে।।

~~©Swaralipi Jana


Image credit:pinterest.com


Aamontron tomar-By Pritam Biswas thepb



Aj tumi korle amontrit…

Tomar hridayer gharey…
Jani na ki money bolle tumi
Songi hote chao amar tumi…
Dhorte chao hat ta amar..
Cholte chao poth ta abar..
Aste chao tumi amar kache..
Jani na ami,modde amar ki a6e..
Tobuo tumi korle amontrit..

Korlam nije ke tomar ghare uposthit…
Uposthit holam tomar ghare..
Holo gamon amar,tomar duare..

Cholbo mora hat dhorey dujon
Gorbo ebar mora notun preet.


~~©Pritam Biswas (ThePB)

Ak Kabbo barta-by Both of Us




Tomate ami sopno dekhi..
Tomate ami sopno khuji..
Na thakile tumi
Bujbe tobe mor akhi..


Jibone jibon rekhe….

nayane nayon rekhe…..

Dhorechi hat tomar sathe…
Hate hat dhore..
Noyon e noyon rekhe..
Dekhbo sopno ak sathe..


Hater paroshe tomay badhi..
Moner paroshe tomay badhi..
Ghatakarobir sute tomate badhi…..🍁🍁


Bedhecho tumi je badhon…
Badhon paran sopechi tomay,
Hariyechi more hriday diyechi tomay..
Pran priyo tomar hriday..
Rekhechi jotone moner jaigay..


Bondhi hoyechi tomar moner khachay…
Achin pakhi k rekhechi tomar basay….😊


Khacha na mor e mon..
Sukher ghor tumi acho sarakhon..



~~©Pritam Biswas (ThePB)
~~©Swaralipi Jana

Image credit:pinterest

Aamate Chiro Tumi -By Swaralipi Jana

আমাতে চির তুমি



কোনো এক গোধূলিবেলায় সন্ধ্যার প্রান্তে তোমার সাথে প্রথম পরিচয়। পরিচয় জমে উঠেছিল সন্ধ্যার শতকোটি নক্ষত্রে ঘেরা আকাশের নীচে। কবিতা, আবৃত্তি, লোকগীতি এবং কিছু দুষ্টু খুনসুটি দিয়ে শুরু হয়েছিল জীবনের বদলে যাওয়া দিনের কাহিনি। ক্রমে ক্রমে মনের অগোচরে জেনে নিল সে, আমার জীবনের বাঁধাধরা ছাঁচে চলা দিন, জেনে নিল আমার জীবনের পছন্দ করা সৌখিন জিনিসপত্র। বুঝে নিল আমার মনের কথা। চিনে নিল আমাকে একলহমায়। চিনে নিল তাকে যাকে চিনতে পারল না কেউ। চিনতে পারল না জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষগুলো। বদলে দিতে শুরু করল আমার জীবনের চলা দিনগুলো কে। সরিয়ে ফেলতে চাইল আমার জীবনের সাদা – কালো পর্দাটাকে। টেনে বের করে আনতে চাইলে সাদা – কালো পর্দার পেছনে লুকিয়ে থাকা রঙিন আলোকে। পর্দা সরিয়ে বের করে আনল গোধূলিবেলার আবির রঙের নাওয়া আকাশের মত জীবনের রঙিন অধ্যায় কে।

তখন আমার অন্য রূপ। ক্রমে হয়ে উঠলাম ‘পবিত্রা’। ক্রমে ক্রমে হয়ে উঠলাম তাঁর জীবনের ‘পাগলী’। মনের দুঃখ বেদনা বলতে শুরু করলাম তাঁকে। যে মেয়ের জীবনে চোখ থেকে জলের ফোঁটা পরত না, তা পরিণত হল বৃষ্টিধারায়। খুশিতে মন ভরে গেল তাঁর। ক্রমে সে হয়ে উঠল
‘আমার কবি’।উপহার দিতে শুরু করল তাঁর লেখা কবিতা। মনের গভীরে শুরু হল প্রেমালাপ। পথ তখন বেঁধেছে দুজন কে। হাত ধরতে শিখলাম তাঁর, পথ চলতে শুরু করলাম তাঁর সাথে। চুম্বনের মাধ্যমে শুরু হল জীবনের মিষ্টি দেওয়া – নেওয়ার গোপন আলাপন। আমি দেখতে শুরু করলাম আমার কবির কবিতায় ভরা দুটি চোখ। যে চোখ দেখে স্বপ্নে আমার ঘুম ভাঙত। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখতে পেতাম তাঁর দুটি তারায় ভরা চোখ আর প্রেমে ভরা ঠোঁট। আস্তে আস্তে সে হয়ে উঠল আমার জীবনের রঙিন আলো। আমার ভোরের আলো, আমার জীবনের নতুন সূর্য, আমার বেদনা ভরা স্তব্ধ রাতের নিঃশব্দ বাতাসের এক দমকা ঝড় তোলা সাথী, অমাবস্যার গহন আঁধারে ঘেরা রাতের প্রেম, আমার পূর্ণিমার জ্যোতস্না। স্বপ্নভরা রাতে আমার শয়ন কক্ষের পাশে শোবার সাথী।

আমার ঠোঁটের সবচেয়ে মিষ্টি হাসিতে আজ সে। আমার কান্নার চোখের জলে আজ সে। আজ জীবনের পথে অনেক বাঁধা এসে দাঁড়িয়েছে। সব বাঁধায় যখন সে ডুবে যায় তখন সে আমাকে অনেক কথা বলতে শুরু করে। বলে তাঁকে ছেড়ে চলে যেতে, বলে সে নিজেও জ্বলছে তার সাথে আমিও নাকি জ্বলছি। বলে সে যদি নিজে না কিছু করতে পারে তাহলে কোনওদিন আমি তাঁর নই। যদি কোনোদিন আমাদের মিল না হয় তবুও কী ভুলতে পারব যে – ‘কবি, তুমি আমার কবি নও?’ কবি, যে পর্দার আরাল থেকে আমাকে টেনে বের করে নিয়ে এসেছে তা যে আর কোনোদিন আগের মত হবে না। তবুও তুমি চলে গেলেও কোনোদিন আমার জীবনের আলোরূপ যে তুমি তাকে তো আমি কোনোদিন আমার আঁধার হতে দিতে পারব না। আমি আজ যা তাই থাকব। আর আমাতে চির তুমি থাকবে।

চির জীবনের লেখায় তুমি,
ভালোবাসাতে চির তুমি ,
থেকো আমাতে চির তুমি।।

~©Swaralipi Jana .


Image credit:pinterest


Etai Kamona by Pritam Biswas Thepb



Kori jokhon tomay nijer buker majhe..
Vule jai sob ami ak nimeshe..
Vule jai sob chinta ami..
Thake na mone kono bedona..
Roy na kono ar asha,
Na thake kono ar bashona..
Mone hoy rakhi tomay ae vabe..
Boli mone-mone,
Jete tomay ar debona..




Bolte chai sob tomay aste-aste..
Sonate chai tomay ka6e ese..
Kore6i sudhu pobitro prem..
Korini go kono cholona..

Chai na ki6u ami tomar ka6e..
Chai na ki6u baro kore..
Sudhu rekho amar angul ti dhore..
Jibone tomar ka6e etai kamona…



©Pritam Biswas (ThePb )